Return to BahaiPrayers.net
Facebook
(এই ফলকলিপিটি “ক্বাদ-ইহ্তারাক্বাল-মুখলিসুন” নামে বাহা’উল্লাহ্ কর্তৃক অবতীর্ণ হয়েছে)
ঈশ্বরের নামে, যিনি সর্ব-প্রাচীন, যিনি সর্ব-মহান।
সত্যিই আন্তরিকগণের হৃদয়সমূহ বিচ্ছেদের আগুনে ধ্বংস হইয়াছে :
তোমার মুখমন্ডলের আলোর বিচ্ছুরণগুলি কোথায়, হে জগৎসমূহের প্রিয়তম?
যাহারা তোমার আপনজন তাহারা বিষন্নতার অন্ধকারে পরিত্যক্ত হইয়াছে :
তোমার পুনর্মিলনের দীপ্তিময় প্রভাত কোথায়, হে জগৎসমূহের আকাঙ্খা ?
তোমার মনোনীতগণের দেহসমূহ সূদুর মরুভূমিতে শিহরিত হইতেছে :
তোমার উপস্থিতির মহাসাগর কোথায়, হে জগৎসমূহের মন্ত্রমুগ্ধকারী ?
আকুল আকাঙ্খার হস্তসমূহ তোমার করুণা ও উদারতার আকাশের দিকে উত্তোলিত :
তোমার দানের বর্ষণসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের উত্তরদাতা।
অবিশ্বাসীগণ উৎপীড়ন সহকারে সর্বত্র উত্থিত হইয়াছে :
তোমার বাধ্যকারী ক্ষমতার আদেশের লেখনী কোথায়, হে জগৎসমূহের বিজেতা।
চতুর্দিকে কুকুরের ডাক সু-উচ্চ হইয়াছে :
তোমার শক্তির অরণ্যের সিংহ কোথায়, হে জগৎসমূহের সংশোধনকারী ?
শৈত্য সমগ্র মানবজাতিকে করায়ত্ত করিয়াছে :
তোমার ভালোবাসার উষ্ণতা কোথায়, হে জগৎসমূহের অগ্নি ?
বিপর্যয় উহার চরমে পৌঁছিয়াছে :
তোমার ত্রাণের চিহ্নসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের পরিত্রাণকারী?
অন্ধকার প্রায় সকল লোককে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করিয়াছে :
তোমার মহিমার উজ্জ্বলতা কোথায়, হে জগৎসমূহের প্রভা ?
অন্যের ক্ষতিসাধনের ইচ্ছায় লোকদের গ্রীবাসমূহ প্রসারিত হইয়াছে :
তোমার প্রতিশোধের তরবারীসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের বিনাশকারী ?
নীচতা উহার নিম্নতম গভীরে পৌঁছিয়াছে :
তোমার মহিমার প্রতীকসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের মহিমা?
দুঃখসমূহ তোমার ‘পরম করুণাময়’ নামের প্রকাশককে পীড়িত করিয়াছে :
তোমার প্রত্যাদেশের অরুণোদয়ের আনন্দ কোথায়, হে জগৎসমূহের পরম আনন্দ?
নিদারুণ মনস্তাপ জগতের জাতিসমূহের উপর পতিত হইয়াছে :
তোমার আনন্দিত করিবার পতাকাসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের আনন্দ?
তুমি দেখিতেছ তোমার নিদর্শনসমূহের উদয়স্থল অনিষ্ট মন্ত্রণাসমূহ দ্বারা পর্দাচ্ছাদিত ?
তোমার শক্তির অঙ্গুলিসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের শক্তি ?
তীব্র পিপাসা সকল মানুষকে অবসাদগ্রস্থ করিয়াছে :
তোমার বদান্যতার স্রোতস্বিনী কোথায়, হে জগৎসমূহের করুণা ?
লালসা সমগ্র মানবজাতিকে বন্দী করিয়াছে :
নিরাসক্তির প্রতিরূপসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের পরম প্রভু?
তুমি দেখিতেছ এই নিপীড়িত জন নিঃসঙ্গ নির্বাসনে রহিয়াছে :
তোমার আদেশের স্বর্গের বাহিনীসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের একাধিপতি ?
আমি বিদেশে পরিত্যক্ত রহিয়াছি :
তোমার বিশ্বস্ততার প্রতীকসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের বিশ্বস্ত ?
মৃত্যুর তীব্র যন্ত্রণা সকল মানুষকে ধরাশায়ী করিয়াছে :
তোমার চিরস্থায়ী জীবনের মহাসাগরের তরঙ্গোচ্ছাস কোথায়, হে জগৎসমূহের জীবন ?
শয়তানের অপপ্রচারসমূহ প্রতিটি সৃষ্টজীবের প্রতি আরোপিত হইয়াছে :
তোমার অগ্নির উল্কাসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের আলো ?
ভাবাবেগের মাতলামী মানবজাতির অধিকাংশকে বিপথগামী করিয়াছে :
তোমার বিশুদ্ধতার অরুণোদয় কোথায়, হে জগৎসমূহের আকাঙ্খা ?
তুমি দেখিতেছ এই নিপীড়িত জন সিরিয়াবাসীদের মধ্যে অত্যাচারে অবগুণ্ঠিত রহিয়াছে :
তোমার ঊষার আলোর উজ্জ্বলতা কোথায়, হে জগৎসমূহের আলো ?
তুমি দেখিতেছ আমার কথা বলা নিষিদ্ধ করা হইয়াছে :
এখন তোমার সুমধুর সংগীতসমূহ কোথা হইতে সৃষ্টি হইবে, হে জগৎসমূহের বুলবুল পক্ষী ?
অধিকাংশ লোক অলীক ও অলস কল্পনায় বিজড়িত রহিয়াছে :
তোমার নিশ্চয়তার ব্যাখ্যাকারীগণ কোথায়, হে জগৎসমূহের নিশ্চয়তা ?
বাহা দারুণ ক্লেশের সাগরে নিমজ্জিত হইতেছে :
তোমার রক্ষাকারী জাহাজ কোথায়, হে জগৎসমূহের রক্ষাকারী?
তুমি দেখিতেছ তোমার উচ্চারণের ঊষাকাল সৃষ্টির অন্ধকারে রহিয়াছে :
তোমার অনুগ্রহের আকাশের সূর্যটি কোথায়, হে জগৎসমূহের আলোদানকারী ?
সত্য ও বিশুদ্ধতা, আনুগত্য ও সম্মানের প্রদীপসমূহ নির্বাপিত করা হইয়াছে :
তোমার প্রতিহত করার তীব্র ক্রোধের নিদর্শন কোথায়, হে জগৎসমূহের আলোড়নকারী ?
তুমি কি কাউকে দেখিতেছ না যে তোমার সত্ত্বাকে সমর্থন করিয়াছে অথবা
তোমার ভালোবাসার পথে তাঁহার উপর কি ঘটিয়াছে তাহা বিবেচনা করে ?
আমার লেখনী এখন থামিয়া আসিতেছে, হে জগৎসমূহের প্রিয়তম।
নিয়তির প্রচন্ড ঝড়ে স্বর্গীয় লোট-বৃক্ষের শাখা-প্রশাখাগুলি ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে :
তোমার ত্রাণের পতাকাসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের রক্ষাকারী ?
এই মুখমন্ডল অপবাদের ধুলিতে লুক্কায়িত :
তোমার করুণার সমীরণসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের করুণা?
পবিত্রতার পরিচ্ছদ কপট লোকদের দ্বারা কলঙ্কিত :
তোমার পবিত্রতার পরিচ্ছদ কোথায়, হে জগৎসমূহের সৌন্দর্যকারী ?
মানুষের হস্তসমূহ যাহা করিয়াছে তাহাতে করুণার সাগর স্তব্ধ হইয়াছে :
তোমার উদারতার তরঙ্গসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের আকাঙ্খা ?
ঐশ্বরিক উপস্থিতিতে গমনের দ্বারটি তোমার শত্রুদের অত্যাচার দ্বারা অবরুদ্ধ রহিয়াছে :
তোমার সাহায্যের চাবি কোথায়, হে জগৎসমূহের উন্মুক্তকারী?
রাজদ্রোহের বিষাক্ত হাওয়ায় পত্রসমূহ হলুদ হইয়াছে :
তোমার করুণার মেঘসমূহের বর্ষণ কোথায়, হে জগৎসমূহের দাতা ?
পাপের ধূলি দ্বারা বিশ্ব ব্রহ্মা- অন্ধকারাচ্ছন্ন হইয়াছে :
তোমার ক্ষমাশীলতার সমীরণসমূহ কোথায়, হে জগৎসমূহের ক্ষমাকারী ?
এই তরুণ একটি জনশূন্য দেশে নিঃসঙ্গ রহিয়াছে :
তোমার স্বর্গীয় করুণার বৃষ্টি কোথায়, হে জগৎসমূহের দাতা ?
হে পরম লেখনী, চিরস্থায়ী রাজ্যে আমরা তোমার মধুরতম আহ্বান শ্রবন করিয়াছি :
মহিমার জিহ্বা তোমার প্রতি যাহা উচ্চারণ করে
তাহা মনোযোগ সহকারে শ্রবন কর, হে জগৎসমূহের নিপীড়িত জন !
নিরুত্তাপ না থাকিলে,
তোমার বানীর উষ্ণতা কেমন করিয়া জয়লাভ করিত, হে জগৎসমূহের ব্যাখ্যাকারী ?
চরম দুর্দশা না থাকিলে,
তোমার ধৈর্যের সূর্য কেমন করিয়া কিরণ দিত, হে জগৎসমূহের আলো ?
দুষ্টলোকের কারণে বিলাপ করিও না।
সহ্য করা ও অবিচলিত থাকার জন্য তোমাকে সৃষ্টি করা হইয়াছে, হে জগৎসমূহের সহিষ্ণুতা ।
কত মধুর ছিল রাজদ্রোহে উত্তেজনা সৃষ্টিকারীদের মধ্যে
চুক্তিপত্রের দিকচক্রবালের উপর তোমার ঊষাকাল,
এবং ঈশ্বরের জন্য তোমার আকুল আকাঙ্খা।
হে জগৎসমূহের ভালোবাসা।
তোমার দ্বারা স্বাধীনতার পতাকা সর্বোচ্চ শিখরসমূহে প্রতিষ্ঠিত করা হইয়াছে
এবং বদান্যতার সাগর তরঙ্গায়িত হইয়াছে, হে জগৎসমূহের পরমানন্দ।
তোমার একাকিত্বের দ্বারা একত্বের সূর্য কিরণ দিয়াছে,
এবং তোমার নির্বাসনের দ্বারা একতার দেশ বৈশিষ্টমন্ডিত হইয়াছে।
ধৈর্য ধারণ কর, হে তুমি জগৎসমূহের নির্বাসিত।
অবমাননাকে আমরা গৌরবের পরিচ্ছদে পরিণত করিয়াছি,
এবং ক্লেশকে তোমার দেহ মন্দিরের অলঙ্কার।
হে তুমি জগৎসমূহের অহংকার।
তুমি দেখিতেছ হৃদয়সমূহ ঘৃণা দ্বারা পূর্ণ,
এবং তাহা উপেক্ষা করা তোমার-ই যোগ্য,
হে তুমি জগৎসমূহের পাপকার্যগুলোর গোপনকারী।
যখন তরবারী ঝলকানি দেয়, সামনে এগিয়ে যাও !
যখন শর উড়ে আসে, সাগ্রহে অগ্রবর্তী হও !
হে তুমি জগৎসমূহের বিসর্জন।
তুমি কি বিলাপ কর, অথবা আমি কি বিলাপ করিব ?
বরং আমি তোমার সমর্থনকারীদের স্বল্পতার জন্য ক্রন্দন করিব,
হে তুমি যিনি জগৎসমূহের বিলাপের কারণ হইয়াছ।
সত্য সত্যই, আমি তোমার আহ্বান শ্রবন করিয়াছ, হে পরম গৌরবান্বিত প্রিয়তম এবং এখন বাহা’র মুখমন্ডল দারুণ ক্লেশের উত্তাপ সহকারে এবং তোমার ঔজ্জ্বল্য দানকারী বাণীর অগ্নি দ্বারা উদ্দীপ্ত হইয়াছে এবং তোমার সন্তুষ্টির প্রতি মুখ করিয়া উৎসর্গের স্থানে সে বিশ্বস্ততার সহিত উত্থিত হইয়াছে, হে জগৎসমূহের আদেশদাতা।
হে আলী-আকবর, এই ফলকলিপির জন্য তোমার পরম প্রভুর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন কর, যাহা হইতে তুমি আমার বিনম্রতার এবং ঈশ্বর, যিনি সমগ্র জগৎসমূহের উপাস্য, তাহার পথে আমাদের উপর যাহা কিছু ঘটিয়াছে তাহার সুঘ্রাণ লইতে অপারগ।
যখন ভৃত্যগণ ইহা পড়িবে এবং বিবেচনা করিবে, তাহাদের শিরাসমূহে একটি অগ্নি প্রজ্বলিত হইবে যাহা জগৎসমূহকে প্রজ্বলিত করিবে।
- Bahá'u'lláh