Return to BahaiPrayers.net
Facebook
‘‘তাহার-ই নামে যিনি এই দিবসে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, তিনি যাহাকে সর্ব-শক্তিমান, সর্ব-প্রেমময় ঈশ্বর তাঁহার নামের অগ্রদূত করিয়াছেন!”
ইহা একটি ফলকলিপি যাহা আমরা সেই রাত্রির প্রতি সম্বোধন করিয়াছি যখন স্বর্গসমূহ এবং মর্ত্য একটি আলো দ্বারা আলোকিত হইয়াছিল যাহা ইহার ঔজ্জ্বল্য সমগ্র সৃষ্টির উপর নিক্ষেপ করিয়াছিল।
তুমি আশীষপূতঃ, হে রাত্রি! কারণ তোমার মাধ্যমে ঈশ্বরের দিবস জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, একটি দিবস যাহাকে আমরা নামাবলীর নগরসমূহের অধিবাসীদের প্রতি মুক্তির প্রদীপ হইতে, চিরন্তনের ক্ষেত্রগুলির বিজয়ীগণের প্রতি বিজয়ের পানপাত্র হইতে এবং সকল সৃষ্টির প্রতি আনন্দ ও মহোল্লাসের উদয়-স্থল হইতে আদেশ করিয়াছি।
অপরিমেয়ভাবে মহিমান্বিত ঈশ্বর, স্বর্গসমূহের সৃষ্টিকর্তা, যিনি এই দিবসকে সেই নাম উল্লেখ করাইয়াছেন যাহার দ্বারা অলস কল্পনার পর্দাসমূহ বিদীর্ণ হইয়াছে, বৃথা কল্পনার কুয়াশাগুলি দূর করিয়াছে, এবং তাঁহার নাম “স্বয়ং-সত্তাশীল” নিশ্চয়তার দিকচক্রের উপর উদয় হইয়াছে। তোমার মাধ্যমে চিরস্থায়ী জীবনের উৎকৃষ্ট মদিরার মোহর ভাঙ্গিয়া ফেলা হইয়াছে, পৃথিবীর জনগণের সম্মুখে জ্ঞান ও উচ্চারণের দ্বারসমূহ খোলা হইয়াছে, এবং প্রতিটি অঞ্চলের উপর পরম করুণাময়ের সমীরণসমূহ মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত করা হইয়াছে। সকল মহিমা সেই প্রহরের প্রতি যখন ঈশ্বরের ধনাগার, যিনি সর্ব-শক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্ব-বিজ্ঞ, আবির্ভূত হইয়াছে।
হে পৃথিবী ও স্বর্গের সমাবেশ! ইহা সেই প্রথম রাত্রি, যাহাকে ঈশ্বর সেই দ্বিতীয় রাত্রির একটি নিদর্শন করিয়াছেন যখন তিনি জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন যাহাকে কোন প্রশংসা উপযুক্তভাবে উচ্চপ্রশংসিত করিতে পারে না এবং কোন বিশেষণ বর্ণনা করিতে পারে না। মঙ্গল তাহার-ই যে উহাদের উভয়ের উপর চিন্তা করে: সত্য সত্যই, সে তাহাদের বাহ্যিক বাস্তবতাকে তাহাদের অন্তর সারৎসারের সহিত আদান প্রদান করিতে দেখিতে পাইবে, এবং ঐশ্বরিক রহস্যগুলির সহিত পরিচিত হইবে যাহা এই প্রত্যাদেশে সংরক্ষিত রহিয়াছে, একটি প্রত্যাদেশ যাহা অবিশ্বসের ভিত্তিসমূহকে প্রকম্পিত করিয়াছে, কুসংস্কারের প্রতিমূর্তিগুলি চূর্ণবিচূর্ণ করিয়াছে এবং পতাকাটি বিস্তৃত করা হইয়াছে যাহা ঘোষণা করে, “তিনি ব্যতীত অন্য কোন ঈশ্বর নাই, যিনি পরাক্রান্ত, মর্যাদাসম্পন্ন, অতুলনীয়, রক্ষাকারী, শক্তিশালী, অনভিগম্য।”
এই রাত্রিতে নৈকট্যের সুরভি মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হইয়াছিল, দিবসসমূহের শেষে পুনর্মিলনের দ্বারসমূহ সজোরে উন্মুক্ত হইয়াছিল এবং সকল সৃষ্টবস্তু অকস্মাৎ উক্তি করিতে সঞ্চালিত হইয়াছিল: “রাজ্য ঈশ্বরের, যিনি সকল নামের পরম প্রভু, যিনি বিশ্রব-আলিঙ্গনকারী সার্বভৌমত্ব সহকারে আসিয়াছেন!” এই রাত্রিতে ঊর্ধ্বরাজ্যের জনমন্ডলী ইহার পরম প্রভুর প্রশংসা উদ্যাপন করিয়াছে, যিনি উচ্চ-প্রশংসিত, পরম মহিমান্বিত এবং ঐশ্বরিক নামাবলীর বাস্তবতাসমূহ তাঁহাকে উচ্চপ্রশংসিত করিয়াছে যিনি এই প্রত্যাদেশের শুরু এবং শেষের সম্রাট, একটি প্রত্যাদেশ যাহার শক্তির মাধ্যমে পর্বতসমূহ তাঁহার নিকট দ্রুত অগ্রসর হইয়াছে যিনি সর্ব-পর্যাপ্তকারী, সর্বোচ্চ এবং হৃদয়সমূহ উহাদের পরম-প্রিয়তমের প্রতি মুখমন্ডল ফিরাইয়াছে এবং পত্রসমূহ সমীরণের ব্যাকুলতা দ্বারা চঞ্চল হইয়াছে এবং বৃক্ষগুলি তাঁহার আহ্বানের প্রতি আনন্দপূর্ণ সাড়াদানে তাহাদের কণ্ঠস্বরসমূহ উত্তোলিত করিয়াছে যিনি স্বাধীন এবং সমগ্র পৃথিবী চিরন্তন সম্রাটের পুনর্মিলন লাভ করিতে ইহার আকাঙ্খায় আকুলতা দ্বারা শিহরিত হইয়াছে এবং সকল বস্তুকে সেই নিহিত শব্দ দ্বারা নতুন করা হইয়াছে যাহা এই শক্তিশালী নামে আবির্ভূত হইয়াছে।
হে সর্ব-বদান্যতার রাত্রি! তোমার মধ্যে সত্য সত্যই আমরা মাতৃগ্রন্থটি দেখিতে পাইতেছি। ইহা কি একটি গ্রন্থ, যথার্থই বরং একটি শিশু জন্মলাভ করিয়াছে? শুধু তাহা-ই নহে, আমার নিজের শপথ! এই বাক্যাবলী নামাবলীর রাজ্যের অংশ, পক্ষান্তরে ঈশ্বর এই গ্রন্থ সকল নামের ঊর্ধ্বে পবিত্র করিয়াছেন। ইহার মাধ্যমে নিহিত রহস্য এবং সঞ্চিত রহস্য প্রকাশিত হইয়াছে। শুধু তাহাই নহে, আমার জীবনের শপথ! যাহা কিছু উল্লেখ করা হইয়াছে উহা সব গুণাবলীর রাজ্যের অধিকারভূক্ত, পক্ষান্তরে মাতৃগ্রন্থ ইহার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে। ইহার মাধ্যমে তাহাদের সকলের ঊর্ধ্বে “ঈশ্বর ব্যতীত অন্য কোন ঈশ্বর নাই” এর প্রকাশসমূহ আবির্ভূত হইয়াছে। শুধু তাহা-ই নহে, যখন এইরূপ বিষয়সমূহ জনগণের নিকট ঘোষণা করা হইয়াছিল, তখন তোমার পরম প্রভুর গণনায় তাঁহার কর্ণ ব্যতীত কেহ-ই সেইগুলি শ্রবণ করিবার উপযুক্ত ছিল না। আশীষপূতঃ তাহারা যাহারা সু-নিশ্চিত!
যাহার ফলে, বিষ্ময়াবিষ্ট, সর্বোচ্চের লেখনী চিৎকার করিয়া বলিয়াছে: “হে তুমি যিনি সকল নামাবলীর উর্দ্ধে উচ্চপ্রশংসিত! আমি তোমার শক্তি দ্বারা তোমাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করিতেছি যাহা স্বর্গসমূহ ও পৃথিবীকে আবেষ্টন করিয়াছে আমাকে তোমার উল্লেখ হইতে দায়মুক্ত করিতে, যেহেতু স্বয়ং আমাকে তোমার সৃজনশীল শক্তির কারণে সত্তায় আহ্বান করা হইয়াছে। অতঃপর, কিরূপে আমি তাহা বর্ণনা করিতে পারি যাহা সকল সৃষ্ট বস্তু বর্ণনা করিতে অক্ষম? এবং তথাপি, আমি তোমার মহিমা দ্বারা শপথ করিতেছি, যদি আমাকে তাহা ঘোষণা করিতে হইত যাহা দ্বারা তুমি আমাকে অনুপ্রাণীত করিয়াছ, সমগ্র সৃষ্টি আনন্দ ও পরমানন্দে মৃত্যু বরণ করিত, তাহা হইলে এই সর্বাধিক আলোকোজ্জ্বল, পরম মহিমান্বিত এবং সর্বোৎকৃষ্ট স্থান তোমার উচ্চারণের মহাসাগরের তরঙ্গসমূহের সম্মুখে কত অধিকতর অভিভূত হইত! মুক্তি দাও, হে পরম প্রভু, এই দ্বিধান্বিত লেখনীকে এইরূপ সুমহান মর্যাদায় প্রশংসিত করা হইতে এবং আমার সহিত সদয়ভাবে আচরণ কর, হে আমার অধিকারী এবং আমার সম্রাট। অতঃপর তোমার উপস্থিতিতে আমার সীমালঙ্ঘনসমূহ উপেক্ষা কর। তুমি, সত্য সত্যই, বদান্যতার পরম প্রভু, সর্ব-শক্তিমান, চির-ক্ষমাশীল, পরম উদার।” (আইয়্যাম-ই-তিসিহ, পৃষ্ঠা ১২-১৫)
- Bahá'u'lláh