Return to BahaiPrayers.net
Facebook
চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে একবার মাত্র এই প্রার্থনা আবৃত্তি করিতে হইবে।
যে কেহ এই প্রার্থনা আবৃত্তি করিতে চাহে, তাহাকে দন্ডায়মান হইয়া ঈশ্বরের দিকে ফিরিতে হইবে এবং যখন সে তাহার স্থানে সুস্থিরভাবে দাড়াইয়া যাইবে, তখন তাহাকে ডান দিকে এবং বামদিকে স্থিরদৃষ্টিতে অবলোকন করিতে হইবে, যেন সে তাহার পরম প্রভুর দয়ার প্রতিক্ষা করিতেছে, যিনি পরম করুণাময়,পরম দয়ালু। তৎপর তাহাকে বলিতে হইবেঃ
‘‘হে নামাবলীর উপাস্য প্রভু এবং আকাশমন্ডলের সৃষ্টিকর্তা। আমি তোমার নিকট বিনীত প্রার্থনা করিতেছি, তাঁহাদের মাধ্যমে যাঁহারা তোমার অদৃশ্য সত্তার প্রভাতিক তারকাসমূহ, যাঁহারা পরম মহীয়ান, যাঁহারা পরম প্রভা, সমুজ্জ্বল, যেন তুমি আমার উপাসনাকে এইরূপ অগ্নিতে পরিণত কর, যাহা ঐ সকল অন্তরালকে ভস্মীভূত করিবে, যাহা আমাকে তোমার সুষমা দর্শন করিতে বাধা প্রদান করিয়াছে এবং এইরূপ আলোকে পরিণত কর যাহা তোমার সহিত মিলনের মহাসাগরের দিকে পরিচালিত করিয়া লইয়া যাইবে।”
তৎপর সে সানুনয় আবেদনের জন্য পবিত্র গৌরবান্তিত ঈশ্বরের দিকে তাহার হস্তদ্বয় উত্তোলন করিবে এবং বলিবে :
“হে পৃথিবীর সকলের অভিলাষিত ও জাতিসমূহের প্রিয়জন। তুমি আমাকে তোমারই দিকে প্রত্যাবৃত্ত হইতে এবং তুমি ব্যতীত অন্য সকলের আসক্তি হইতে মুক্ত থাকিতে এবং তোমার রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়া ধরিয়া থাকিতে দেখিতে পাইতেছ, যাহার গতিশক্তির প্রয়োগ দ্বারা সমুদয় পৃথিবী শক্তিশালী হইয়াছে। আমি তোমার সেবক হে আমার প্রভু এবং তোমার সেবকের সন্তান। তোমার ইচ্ছা ও আকাংখা অনুযায়ী কার্য করিবার জন্য তুমি আমাকে দন্ডায়মান ও প্রস্তুত দেখিতে পাইতেছ এবং তোমার সন্তোষ ব্যতীত আমি অন্য কিছুরই অভিলাষ করি না। আমি তোমার নিকট সানুনয় প্রার্থনা করিতেছি, তোমার করুণার মহাসাগর এবং তোমার অনুকম্পার সূর্যের মধ্যস্থতায়, যেন তুমি তোমার সেবকের সহিত সেরূপভাবে কার্য কর যেরূপ তুমি ইচ্ছা কর এবং বাসনা কর। তোমার সেই বিভূতির শপথ, যাহা সকল উল্লেখ ও প্রশংসা হইতে অনেক পবিত্র ও উচ্চ। তোমার নিকট হইতে যাহা কিছু অবতীর্ণ ও প্রকাশিত হয়, তাহা আমার অন্তরের অভিলাষ ও অন্তরাত্মার বাঞ্ছিত বস্তু। হে প্রভু, আমার প্রভু। আমার ইচ্ছা সমূহ ও আমার কার্যসমুহের প্রতি লক্ষ্য করিও না, বরং তোমার ইচ্ছার প্রতি লক্ষ্য কর, যাহা স্বর্গ ও মর্ত পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছে। তোমার পরম মহিমান্বিত নামের শপথ। হে সকল জাতির পরম প্রভু। তুমি যাহা ইচ্ছা করিয়াছ, আমি কেবল তাহাই ইচ্ছা করি এবং তুমি যাহা ভালবাস, আমি কেবল তাহাই ভালবাসি।”
তৎপর জানু পাতিয়া মাটির উপর মস্তক রাখিয়া বলিবে :
“তুমি ইহা হইতে এতই পবিত্র ও উন্নত যে তুমি ব্যতীত অপরের দ্বারা তোমার গুণাবলী বর্ণিত হইবে, অথবা তোমার বোধশক্তি ব্যতীত অপরের বোধশক্তি দ্বারা তুমি পরিচিত হইবে।”
তৎপর সে দাঁড়াইয়া যাইবে এবং বলিবে :
“হে আমার পরম প্রভু, আমার উপাসনাকে, স্বর্গীয় কাওসার প্রস্রবনের জীবন-সলিল সদৃশ কর, যেন তদ্বারা আমার অস্তিত্ব তোমার একাধিপত্যের স্থিতিকাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকে এবং যেন তোমার জগৎসমূহের প্রত্যেক জগতে তোমার নাম উল্লেখ করিতে পারে।”
তৎপর সে সানুনয় আবেদনের জন্য তাহার হস্তদ্বয় পুনঃ উত্তোলন করিবে এবং বলিবে :
“হে তুমি, যাহার বিচ্ছেদে অন্তর ও অন্তরাত্মাসমূহ দ্রবীভূত হইয়াছে এবং যাহার প্রেমের অগ্নিতে সমস্ত পৃথিবীর লোকের অন্তর প্রজ্জ্বলিত হইয়াছে। আমি তোমার নিকট সবিনয় প্রার্থনা করিতেছি, তোমার সেই নামের সহায়তায়, যাহা দ্বারা তুমি সমগ্র সৃষ্টি-জগৎকে বশীভূত করিয়াছ, যেন তুমি আমাকে তাহা হইতে বঞ্চিত না কর, যাহা তোমার নিকট আছে, হে তুমি, যিনি সকল লোকের উপর প্রভুত্ব করিতেছ। তুমি দেখিতেছ, হে আমার পরম প্রভু, এই অজ্ঞাত ব্যক্তি তোমার মহিমার চন্দ্রাতপতলে ও তোমার করুণার পরিবেশের মধ্যে, তাহার পরম মহিমান্বিত আবাসের দিকে দ্রুততর অগ্রবর্তী হইতেছে, এই অপরাধী ব্যক্তি তোমার ক্ষমার মহাসাগর অন্বেষণ করিতেছে এবং এই বিনম্র ব্যক্তি তোমার প্রভাব প্রাঙ্গণ অনুসন্ধান করিতেছে, এই দরিদ্র প্রাণী তোমার ঐশ্বর্য্যের উদয়-স্থলের দিকে লক্ষ্য করিয়া রহিয়াছে। তুমি যাহা করিতে ইচ্ছা কর, আদেশ দানের কর্তৃত্ব তোমারই। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, তুমি স্বর্গীয় কার্যে প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য এবং তোমার আদেশসমূহ প্রতিপালিত হওয়ার যোগ্য এবং তোমার আদেশ-কার্যে তুমি সম্পুর্ণ স্বাধীন।”
তৎপর সে তাহার হস্তদ্বয় উত্তোলন করিবে এবং তিনবার ‘আল্লাহু আব্হা’ এই পরম মহীয়ান নাম উচ্চারণ করিবে। তৎপর হস্তদ্বয় জানুদ্বয়ের উপর স্থাপন করিয়া পরম পবিত্র ও পরম মবিহমান্বিত ঈশ্বরের জন্য মস্তক অবনত করিবে এবং বলিবেঃ
“তুমি দেখিতেছ, হে আমার প্রভু, তোমার উপাসনার স্পৃহায় তোমার স্মরণের ও উচ্চ প্রশংসার ঔৎসুক্যে, আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের মধ্যে আমার আত্মা কিরূপ আলোড়িত হইয়াছে, কিরূপে ইহা ঐ সমন্ধে সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে, যে সমন্ধে উচ্চারণের রাজ্যে এবং তোমার জ্ঞানের স্বর্গে তোমার অনুজ্ঞার রসনা সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে। এই অবস্থায় হে আমার পরম প্রভু, তোমার নিকট হইতে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করিতে ভালবাসি, যেন আমি আমার দরিদ্রতা স্পষ্টরূপে প্রমাণ করিতে পারি এবং তোমার বদান্যতা ও তোমার ঐশ্বর্যের উচ্চ প্রশংসা করিতে পারি এবং তোমার শক্তি ও সামর্থ্য প্রকাশ করিতে পারি এবং তৎসঙ্গে আমার শক্তিহীনতা প্রচার করিতে পারি।”
তৎপর সে দাঁড়াইয়া যাইবে এবং বিনীত আবেদনের জন্য তৃতীয় বার তাহার হস্তদ্বয় উত্তোলন করিবে এবং বলিবেঃ
“তুমি প্রভু ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তুমি সর্বশক্তিমান, তুমি সর্ব-বদান্যতাপূর্ণ। তুমি প্রভু ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তুমি প্রাথমিক ও অন্তিম আদেশ-দাতা। হে প্রভু আমার ঈশ্বর। তোমার মার্জনা আমাকে সাহসী করিয়াছে এবং তোমার দয়া আমাকে সবল করিয়াছে, এবং তোমার আহ্বান আমাকে জাগ্রত করিয়াছে এবং তোমার অনুগ্রহ আমাকে উত্থিত করিয়াছে এবং তোমার দিকে আমাকে পরিচালিত করিয়াছে । পক্ষান্তরে, আমি কে ও আমার কি শক্তি আছে যে তোমার নৈকট্যের নগরের তোরণ-দ্বারে আমি দাঁড়াইতে সাহস করিব অথবা তোমার ইচ্ছার স্বর্গ হইতে যে সমুদয় আলোক উজ্জ্বলভাবে জ্বলিতেছে তাহার দিকে মুখ ফিরাইব? তুমি দেখিতেছ, হে আমার পরম প্রভু, এই হতভাগ্য ব্যক্তি তোমার অনুগ্রহের দ্বারে আঘাত করিতেছে, এবং এই দ্রুত অন্তর্ধানকারী আত্মা তোমার বদান্যতার হস্ত হইতে অনন্ত জীবনের কাওসার প্রস্রবণ অনুসন্ধান করিতেছে। সকল অবস্থায় সর্বসময়ে আদেশের আধিপত্য তোমারই, হে নাম সমূহের পরম প্রভু এবং আমার জন্য কেবল আত্মসমর্পণ এবং তোমার ইচ্ছার প্রতি স্বেচ্ছায় আনুগত্য, হে আকামন্ডলের সৃষ্টিকর্তা।”
তৎপর তিনবার সে তাহার হস্তদ্বয় উত্তোলন করিবে এবং বলিবেঃ
“প্রত্যেক মহান হইতে ঈশ্বর মহীয়ান”
তৎপর সে জানু পাতিয়া মাটির উপর মস্তক স্থাপন করিয়া বলিবে ?
“তুমি এতই পবিত্র, মহোচ্চ ও মহীয়ান যে, নৈকট্য প্রাপ্ত লোকদের প্রশংসা-গীতিও তোমার নৈকট্যের আকাশমন্ডলে আরোহণ করিতে সক্ষম নহে অথবা তোমার ভক্তদের অন্তর-পক্ষীসমূহ তোমার প্রবেশ-পথের দ্বারদেশেও পৌঁছিতে সমর্থ নহে। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে তুমি সকল গুণাবলী হইতে পবিত্রীকৃত এবং সকল নামাবলী হইতে পূত ও পবিত্র। তুমি প্রভু ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তুমি পরম মহীয়ান, তুমি সর্ব প্রভাময়।”
তৎপর সে বসিয়া যাইবে এবং বলিবে :
“আমি তাহাই সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে যে সন্বন্ধে সকল সৃষ্ট-জীব উচ্চ স্বর্গস্থ জনমন্ডলী, সর্বোচ্চতম স্বর্গবাসীগণ এবং তাহারা ব্যতীত সর্ব-প্রভার দিকমন্ডল হইতে মহত্তের রসনা স্বয়ং সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছে যে নিশ্চয়ই তুমি প্রভু, তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই এবং যিনি প্রকাশিত হইয়াছেন তিনি সত্যই, নিহিত রহস্য, অতি মুল্যবান নিভৃত সঞ্চিত নিদর্শন, যাহার মধ্যস্থতায় ‘কাফ’ ও ‘নুন’ (‘বি’ ও ‘ই’) বর্ণদ্বয় সংযুক্ত ও সম্মিলিত করা হইয়াছে। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, ইনি তিনিই যাঁহার নাম পরম সর্বোচ্চ লেখনী দ্বারা লিপিবদ্ধ করা হইয়াছে এবং যিনি প্রভুর গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত হইয়াছেন, যিনি উচ্চতম সিংহাসনের ও মর্তের পরম প্রভু।
তৎপর সে সোজাভাবে দাঁড়াইয়া যাইবে এবং বলিবে :
“সে সর্ব অস্তিত্বের পরম প্রভু এবং সকল দৃশ্য ও অদৃশ্যের অধিপতি। তুমি আমার অশ্রুর প্রবাহ ও আমার উচ্চারিত দীর্ঘ নিঃশ্বাস সমূহ দেখিতেছ এবং তুমি আমার গভীর আর্তনাদ সমূহ ও আমার বিলাপধ্বনি এবং আমার অন্তরের শোক-বিলাপধ্বনি শ্রবণ করিতেছে। তোমার মহত্বের শপথ। আমার অবৈধ কার্যাবলী তোমার নৈকট্য লাভ করিতে আমাকে বাধা প্রদান করিয়াছে এবং আমার পাপ কার্যসমূহ তোমার পবিত্রতার প্রাঙ্গন হইতে আমাকে অনেক দূরে রাখিয়া দিয়াছে। তোমার প্রেম, হে আমার পরম প্রভু, আমাকে ঐশ্বর্যশালী করিয়াছে এবং তোমার নিকট হইতে বিচ্ছেদ আমাকে ধ্বংস করিয়াছে এবং তোমার নিকট হইতে দূরত্ব আমাকে দগ্ধ করিয়া দিয়াছে। আমি তোমার নিকট সবিনয় প্রার্থনা করিতেছি, এই মরুভূমিতে তোমার পদদ্বয়ের পদবিক্ষেপ সহায়ে এবং এই সীমাহীন অনন্তস্থানে তোমার মনোনীত জনগণের ‘আমি এখানে উপস্থিত’ ‘আমি এখানে উপস্থিত’ এই উচ্চারিত বাক্যের সহায়তায় এবং তোমার স্বর্গীয় প্রত্যাদেশের, নিঃশ্বাস-সমূহের এবং তোমার ঐশী-প্রকাশের মৃদূ প্রবাহিত প্রভাতিক সমীরণসমূহের সহায়তায় যেন তুমি আমাকে এইরূপ শক্তি প্রদান কর, যাহা দ্বারা আমি তোমার স্বর্গীয় সুষমা অবলোকন করিতে পারি এবং তোমার অবতীর্ণ গ্রন্থে যে সকল আদেশ প্রদত্ত হইয়াছে তদানুসারে কার্য করিতে পারি।
তৎপর সে তিনবার ‘আল্লাহু আব্হা ’ এই পরম মহীয়ান নাম উচ্চারণ করিবে এবং তৎপর হস্তদ্বয় জানুদ্বয়ের উপর স্থাপন করিয়া মাটির দিকে মস্তক অবনত করিয়া বলিবেঃ
“সকল প্রশংসা তোমারই হে আমার প্রভু, কেননা তোমাকে স্মরণ করিবার জন্য ও তোমার প্রশংসা স্তুতির জন্য তুমি আমাকে সাহায্য করিয়াছ, এবং যিনি তোমার নিদর্শনাবলীর প্রভাতিক তারকা তাঁহাকে আমার নিকট পরিচিত করিয়াছ, এবং তোমার পরম প্রভুত্বের সন্মুখে আমার মস্তক অবনত করিয়াছ এবং তোমার ঐশীত্বের নিকট আমাকে বিনয়াবনত করিয়াছ এবং তোমার মহত্বের রসনা দ্বারা যাহা উচ্চারিত হইয়াছে তাহা স্বীকার করিয়া লইতে বাধ্য করিয়াছ।”
তৎপর সে দাঁড়াইয়া যাইবে এবং বলিবে :
“হে প্রভু। আমার প্রভু। আমার পাপের ভারে আমার পৃষ্ঠদেশ অবনত হইয়াছে এবং অমনোযোগিতা আমাকে ধ্বংস করিয়াছে। আমি যখনই আমার মন্দ কার্যাবলী সমন্ধে এবং তোমার দয়ার উত্তম কার্য সমন্ধে চিন্তা করি, তখন আমার মধ্যে আমার অন্তর দ্রবীভূত হয়, এবং আমার শিরাসমূহে আমার রক্ত সিদ্ধ হইতে থাকে। তোমার সুষমার শপথ। হে পৃথিবীর সকলের আকাংখিত জন। তোমার দিকে আমার মুখ উত্তোলন করিতে আমার লজ্জাবোধ হইতেছে এবং আমার আকাংখার হস্ত তোমার বদান্যতার স্বর্গের দিকে উত্তোলিত হইতে লজ্জাবনত হইতেছে। তুমি দেখিতেছ, হে আমার প্রভু, কিরূপে আমার অশ্রুসমূহ তোমাকে স্মরণ করিতে ও তোমার গুণাবলীর প্রশংসা-গীতি গান করিতে আমাকে বাধা প্রদান করিতেছে, হে অত্যুচ্চ স্বর্গের সিংহাসনের এবং মর্তের পরম প্রভু। আমি তোমার নিকট সবিনয় প্রার্থনা করিতেছে, তোমার রাজত্বের নিদর্শনাবলী, তোমার আধিপত্যের রহস্যাবলীর সহায়তায়,-যেন তুমি তোমার প্রিয় ব্যক্তিগণের সহিত ঐরূপ কার্য কর যাহা তোমার বদান্যতার উপযুক্ত, হে সকল অস্তিত্বের পরম প্রভু এবং যাহা তোমার অনুকম্পার উপযোগী, হে দৃশ্য ও অদৃশ্য রাজ্যের সম্রাট।”
এবং তৎপর সে তিনবার ‘আল্লাহু আব্হা’ এই পরম মহীয়ান নাম উচ্চারণ করিবে এবং তৎপর জানু পাতিয়া মাটির উপর মস্তক রাখিয়া এই প্রার্থনা আবৃত্তি করিবেঃ
“সকল প্রশংসা তোমারই, হে আমার প্রভু, যেহেতু তুমি আমাদের জন্য তাহাই অবতীর্ণ করিয়াছ যাহা আমাদিগকে তোমার নিকটবর্তী করে এবং তোমার গ্রন্থসমূহে এবং তোমার ধর্ম শাস্ত্রসমূহে প্রত্যেক উত্তম বাক্য যাহা তুমি অবতীর্ণ করিয়াছ তাহা আমাদের জন্যই ব্যবস্থা করিয়াছ। হে আমাদের পরম প্রভু, আমরা তোমার নিকট প্রার্থনা করিতেছি যেন তুমি বৃথা কল্পনাসমূহের ও অর্থহীন অনুমানসমূহের সৈন্যদল হইতে আমাদিগকে রক্ষা কর। তুমি, সত্য সত্যই সর্বশক্তিমান, সর্ব জ্ঞান সম্পন্ন।”
তৎপর সে তাহার মস্তক উত্তোলন করিবে ও বসিয়া যাইবে এবং প্রার্থনা আবৃত্তি করিবে :
“আমি সাক্ষ্য দিতেছি হে আমার প্রভু, সেই সমন্ধে যেই সমন্ধে তোমার মনোনীত জনগণ সাক্ষ্য দিয়াছেন এবং আমি তাহাই স্বীকার করিতেছি যাহা সর্বোচ্চ স্বর্গের অধিবাসীগণ এবং যাঁহারা তোমার মহিমান্তিত সিংহাসন পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছেন তাঁহারাও স্বীকার করিয়াছেন। স্বর্গ ও মর্তের রাজত্বসমূহ তোমারই, হে সমগ্র বিশ্বের পরম প্রভু।”
- Bahá'u'lláh