The Universal House of Justice
Ridván 2021 / 178BE

To the Bahá’ís of the World

Dearly loved Friends,

১। ধর্মের ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্মরণীয় অধ্যায়ের শেষ কথাগুলি লেখা হয়েছে এবং পৃষ্ঠা উল্টানো হচ্ছে। এই রিজওয়ান একটি অসাধারণ বছরের এটি পাঁচ সালা পরিকল্পনার এবং ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া পরিকল্পনাসমূহের একটি পূর্ণ ধারাবাহিকের সমাপ্তিকে চিহ্নিত করে। পরিকল্পনাসমূহের একটি নতুন ক্রম আমাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছে, যা একটি নব যুগ সৃষ্টিকারী বার মাসের প্রতিশ্রুতি এবং যা আগামী রিজওয়ান থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এমন একটি ৯ (নয়) বছর ব্যাপী প্রচেষ্টার প্রস্তাবনার সম্মুখে এমন একটি সমাজ দেখতে পারছি যা দ্রুত শক্তি সঞ্চার করছে এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্য বৃহত্তর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এই স্থানে পৌঁছাতে কত কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছিল এবং এই পথে অগ্রসর হতে কত কষ্টার্জিত অন্তর্দৃষ্টি লাভ হয়েছে তার সম্পর্কে কোন ভ্রান্ত ধারণার অবকাশ থাকতে পারে না। অর্জিত শিক্ষাগুলি সমাজের ভবিষ্যৎকে রূপদান করবে এবং সেই শিক্ষাগুলি কিভাবে অর্জন করা হয়েছিল তার বর্ণনা আগামী দিনগুলির উপর আলোক বর্ষণ করবে।


 ২। ১৯৯৬ পূর্ববর্তী দশকগুলি যা নিজের অগ্রগতি এবং অন্তর্দৃষ্টিসমূহ দ্বারা সমৃদ্ধ ছিল, কোন সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে, অনেক সমাজে বৃহত্তর সংখ্যায় মানুষ ধর্মের পতাকা তলে আসতে প্রস্তুত থাকবে। তবুও বৃহত্তর সংখ্যায় ধর্মের অন্তর্ভূক্তির উদাহরণগুলি যতই উৎসাহজনক হোক না কেন সেগুলির বৃদ্ধির টেকসই প্রক্রিয়ার সাথে তুলনা করা যেতে পারে না যার বৈচিত্র পটভূমিতে লালন করা যেতে পারে। সেই সময় সমাজ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিল যার যথোচিত উত্তর দেওয়ার মত যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তখন তার ছিল না। সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহিত পদক্ষেপগুলিকে দৃঢ়করণের প্রক্রিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে এমনভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় যেন বৃদ্ধিকে ধরে রাখার দীর্ঘ দিনের আপাত দৃষ্টিতে দুর্নিবার চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হওয়া যায়। কিরূপে এমন ব্যক্তি প্রতিষ্টানসমূহ এবং সমাজগুলির গড়ে তোলা যায় যারা বাহা’উল্লাহর শিক্ষাকে বাস্তবে পরিণত করার সক্ষমতা রাখে? এবং ভাবে যারা বাহা’ই শিক্ষাসমূহের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। একটি গ্রহব্যাপি আধ্যাত্মিক উদ্যোগের প্রবক্তায় পরিণত হতে পারে?


 ৩। আজ থেকে সিকি শতাব্দী পূর্বে পরিস্থিতি এই রূপ ছিল যে, বাহা’ই সমজ যখন একটি চারসালা পরিকল্পনা শুরু করে তখন ও তারা তাদের প্রথম সারিতে তিন জন ঈশ্বরের ধর্মবাহুগণ তাদের সঙ্গে ছিলেন, সেই সময়ের পূর্বে যারা ছিলেন তাদের থেকে তারা (সেই সময়ের বাহা’ইগণ) এইরূপ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ছিলেন যে, তাদের সমস্তমনোযোগ এক লক্ষ্যের প্রতি কেন্দ্রীভূত ছিল: দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এইলক্ষ্যটিই পরবর্তী পরিকল্পনাসমূহের ক্রমকে সংজ্ঞায়িত করে। সমাজ ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছিল যে, এই প্রক্রিয়ার অর্থ কেবলমাত্র একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংখ্যায় মানুষের দলগুলির ধর্মে প্রবেশ নয় এবং সেটা স্বত:স্ফূর্তভাবেও ঘটবে না; এটার জন্য স্থিরসংকল্প পদ্ধতিগত এবং দ্রুতগতি সম্বলিত সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের প্রয়োজন। এই উদ্যোগের জন্য বৃহৎ সংখ্যায় আত্মাসমূহের উদ্দীপ্ত অংশগ্রহণের প্রয়োজন হবে এবং ১৯৯৬-এ বাহা’ই বিশ্বকে এই প্রক্রিয়া যে বিশাল শিক্ষামূলক চ্যালেঞ্জকে জন্ম দেয় তার ভার গ্রহণ করার জন্য আহবান জানানো হয়েছিল। তাদেরকে প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটসমূহের এমন একটি পরস্পর যুক্ত শৃঙ্খলা তৈরী করতে আহবান জানানো হয় যেগুলি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রবাহ সৃষ্টি করার প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে।


 ৪। এই উদ্যোগ গ্রহণ করার সময় বন্ধুরা অবগত ছিলেন যে, ধর্মের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাদের বিগত বিজয়সমূহ সত্বেও এটা খুবই স্পষ্ট ছিল যে, সামর্থ্যগুলি তাদেরকে অর্জন করতে হবে তা সে বিষয় তাদের অনেকে শেখার রয়েছে এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই সকল সামর্থ্য কিভাবে অর্জন করা হবে তা শেখা। অনেকভাবে সমাজ এই সামর্থ্যগুলি কাজ করার মাধ্যমে শেখে এবং তারা যে শিক্ষা অর্জন করে তা আবার দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্নপটভূমিতে পরিমার্জিত এবং বিশোধিত হয়ে অবশেষে শিক্ষামূলক উপকরণে অন্তর্ভূক্ত হয়। এটা স্বীকার করা হয় যে, কতিপয় কার্যক্রম জনগণের আধ্যাত্মিক চাহিদার প্রতি স্বাভাবিক সাড়া দান ছিল। অধ্যয়ন চক্র, শিশু ক্লাস, ভক্তিমূলক সভা এবং পরবর্তীতে জুনিয়র ইয়ুথ গ্রুপগুলি এই ক্ষেত্রে প্রধান গুরুত্ব বহনকারী কার্যক্রমরূপে লক্ষণীয় এবং যখন এই সকলকে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে বিজড়িত করা হয় তখন যে গতিশীলতার জন্ম হয় তা একটি স্পন্দনশীল সমাজ জীবনের উত্থানের কারণ হয়। এই সকল মূল কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যায় বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়। তারা এমন একটি প্রবেশ দ্বারে পরিণত হয় যার মাধ্যমে যুবক, প্রাপ্ত বয়স্ক এবং বৃহত্তর সমাজের সম্পূর্ণ পরিবারবর্গসমূহ বাহা’উল্লাহর প্রত্যাদেশের মুখোমুখি হয়। এটাও প্রতীয়মান হয়ে উঠেছিল সমাজ নির্মাণের কর্ম কৌশলগুলিকে ক্লাস্টার অর্থাৎ একটি সহজ পরিচালনাযোগ্য


 এমন একটি ভৌগোলিক এলাকা, যার স্বতন্ত্র সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে পর্যায় বিবেচনা করা খুবই বাস্তবসম্মত। ক্লাস্টার পর্যায়ে সরল পরিকল্পনা প্রস্তুত করার চর্চা শুরু হয় এবং এই জাতীয় পরিকল্পনাসমূহ থেকে ধর্মের বৃদ্ধির কর্মসূচীগুলি উত্থিত হয়, যা পরবর্তীতে তিনমাস ব্যাপী কার্যক্রমের চক্রের রূপ ধারণ করে। শুরুতেই স্পষ্টতার একটি বিন্দু উঠে আসে: কোর্সসমূহের ক্রমে মানুষের প্রবাহ ক্লাস্টারসমূহের উন্নতির ধারাকে উৎসাহ দান এবং তার পাশাপাশি তাকে স্থায়িত্ব দান করে। একে অপরের পরিপূরক পরিবেশে বৃদ্ধির গতির পর্যালোচনা করতে পারেন এবং বর্ধিত শক্তি অর্জনের পথ তৈরী করে নিতে পারে। সময়ের সাথে সাথে ক্লাস্টারে যা ঘটছে তাকে তিনটি অত্যাবশ্যক শিক্ষামূলক কার্যক্রম অর্থাৎ শিশু, জুনিয়র ইযুথ এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের সেবার এবং তার পাশাপাশি বৃদ্ধির ছন্দ বজায় রাখার জন্য কার্যক্রমের চক্রগুলির পরিপ্রেক্ষিতে দেখা প্রচেষ্টায় এক পর্যায় আমরা বৃদ্ধিকে সকল সুপরিচিত বৈশিষ্ট্যসমূহ দেখতে পাই যেগুলি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল।


 ৫। কার্যক্রমের প্রচেষ্টাগুলির তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সাথে সার্বজনীনভাবে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন নীতি, ধারণা এবং কর্মকৌশলগুলি একটি কাঠামোয় রূপ নিতে থাকে যার মধ্যে নতুন উপদানগুলিকে স্থান দেওয়ার মত বিবর্তিত হওয়ার যোগ্যতা ছিল। এই কাঠামোটি প্রচন্ড জীবনী শক্তি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে মৌলিক প্রমাণিত হয়। এই কাঠামো বন্ধুদেরকে তাদের শক্তিসমূহকে এমনভাবেপরিচালিত করতে সহায়তা প্রদান করে যা প্রমাণিত হয়েছে যে সমাজগুলির সুস্থ্য বৃদ্ধি জন্য উপকারী ছিল, কিন্তু কোন কাঠামো কোন ধরা-বাঁধা নিয়ম নেই। কোন একটি ক্লাস্টার স্থান বা শুধু একটি পাড়ায় প্রক্রিয়ারত একটি কাঠামোর বিভিন্ন উপাদানের বাস্তব পর্যালোচনা করার সময় কার্যক্রমের একটি ছক বা নমুনা তৈরী করা যেতে পারে যেখানে থেকে বাহা’ই বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল তাদের নিজস্ব অবস্থানের প্রতি সাড়া দান করার সময় শিখতে পারে। এক দিকে অনুমোদনীয় শর্তাবলী এবং অপর দিকে সীমাহীন ব্যক্তিগত পছন্দের মত পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থানের পরিবর্তে তখন একটি অধিকতর সুখ উপলব্ধি স্থান করে নেয়, যেখানে বিভিন্নভাবে একক ব্যক্তিরা এমন একটি প্রক্রিয়াকে সমর্থন দান করতে পারে, যা মূলত সুসংহত এবং যা অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে অব্যাহতভাবে পরিমার্জিত হচ্ছে। এই বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ যেন না থাকে যে, এই কাঠামোর উত্থান যে অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করছে তা পুরো বাহা’ই বিশ্বের সমন্বয়ন সাধন এবং একত্রীকরণের প্রচেষ্টার জন্য এবং তার অগ্রযাত্রার দিকে চালিত করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।


 ৬। যখন একটা পরিকল্পনার পর আর একটা পরিকল্পনা ধারাবাহিকতাভাবে আসতে থাকে তখন সমাজ নির্মাণের কার্যক্রম সম্পৃক্ততা অধিকতর প্রস্তুত ভিত্তিতে লাভ করে এবং সংস্কৃতিক স্তরে অগ্রগতি আরো ফুটে উঠে। উদাহরণস্বরূপ নতুন প্রজন্মের শিক্ষাদানের বিষয়টা আরো ব্যাপকভাবে স্বীকৃত লাভ করতে থাকে, বিশেষভাবে কিশোরদের যে অসাধারণ সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে তা উপলব্ধি করা হয়। আত্মাগুলির একে অপরের সাথে অভিন্ন পথে সঙ্গদান করা সহযোগিতার অব্যাহতভাবে সম্পসারণশীল বৃত্ত সেবার কাঙ্খিত সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্য একটি আদর্শে পরিণত হয়। এমনকি বন্ধুদের নিজেদের মধ্যে এবং যারা তাদের আশে পাশে রয়েছে তাদের সাথে মিথস্ক্রিয়া একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, আধ্যাত্মিক সংবেদনশীলতাকে প্রজ্জ্বলিত এবং উৎসাহ দানে অর্থবহ কথোপকথনের শক্তির সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে বাহা’ই সমাজগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে বর্হিমুখি হয়ে উঠে। ধর্মের দর্শনের প্রতি আগ্রহী যে কোন আত্মা একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এমন কি শিক্ষামূলক এবং সমাজ গঠনের অন্যান্য প্রাথমিক কর্মকান্ডের প্রবর্তক বা সহায়তাদানকারীর পর্যন্ত হয়ে যেতে পারতো: এমন সব আত্মার মধ্যে ঘোষণা ও করেন। এইভাবে দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ার এমন একটি ধারণার জন্ম নেয় যা তত্ত্ব এবং অনুমানের উপর নির্ভর না করে কিভাবে অধিকতর সংখ্যায় মানুষ বাহা’ই ধর্মের সন্ধান পায় তার বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর বেশি মনোযোগ স্থাপন করে, তারা এই ধারনার অভ্যস্ত কার্যক্রমের এবং আলোচনায় যোগ দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করে। নিঃসন্দেহে ইন্সটিটিউট প্রক্রিয়া অঞ্চলের পর অঞ্চলে শক্তিশালী হওয়ার সাথে পরিকল্পনার কাজে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এমন ব্যক্তিদেরকে দ্রুতবেগে আলিঙ্গন করে যারা খুবই সম্প্রতিকালে ধর্ম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি শুধু মাত্র সংখ্যায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালিত ছিল না। একই সময় ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত রূপান্তরের একই সাথে সংগঠিত হচ্ছে, যার ভিত্তি হচ্ছে ঈশ্বরীয় বাণী এবং এই বিষয়ের উপলব্ধি যে একটি প্রগাঢ় আধ্যাত্মিক ঘটনার মূল নায়ক হওয়ার সামর্থ্য প্রত্যেকটি ব্যক্তির রয়েছে এবং একটি অভিন্ন প্রচেষ্টার অনুভূতিকে জন্ম দিয়েছে।


 ৭। এই পঁচিশ বছর ব্যাপী সময়ের একটি অন্যতম লক্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণাদানকারী বৈশিষ্ট্য হলো বাহা’ই যুবকদের সেবাদান তারা তাদের বিশ্বাস এবং সাহসিকতা দিয়ে সমাজের কর্মকান্ডে প্রথম সারিতে থাকার অধিকার ন্যায়সঙ্গতভাবেই অর্জন করেছে। পাঁচটি মহাদেশে যুবকরা ধর্মের শিক্ষক, কিশোরদের শিক্ষক, ভ্রাম্যমান টিউটর ও স্বদেশীয় পথিকৃৎ, ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর এবং বাহা’ই এজেন্সীসমূহের সদস্য হিসেবে তারা তাদের সমাজের সেবাদানের জন্য উৎসর্গ এবং ত্যাগের সাথে উত্থিত হয়েছে। যে দায়িত্ব পালনের উপর ঐশী পরিকল্পনার অগ্রগতি নির্ভরশীল, সেই দায়িত্ব পালনে তারা যে পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন তা তাদের আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তি এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রতি তাদের অঙ্গিকার বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। তাদের এই ক্রমবর্ধমান পরিপক্কতার প্রতি স্বীকৃত স্বরূপ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই রিজ্ওয়ান (২০২১) এর পর থেকেই যদিও কোন আধ্যাত্মিক পরিষদে সেবাদানের জন্য বয়সের যোগ্যতা ২১ (একুশ) বছরই থাকবে কিন্তু যে বয়সে কোন বিশ্বাসী বাহা’ই নির্বাচনে ভোট দিতে পারে, সেই বয়সটি ১৮(আঠারো)তে নিয়ে আসা হবে। আমাদের কোন সন্দেহ নাই যে, সর্বত্র সকল প্রাপ্ত বয়স্ক যুব বাহা’ইরা তাদের পবিত্র দায়িত্ব পালনে যার জন্য প্রত্যেকটি বাহা’ই নির্বাচককে আহবান জানানো হয় তা বিবেকনিষ্ঠভাবে এবং সযত্নে পূর্ণ করার ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বাসের যথার্থতা প্রমাণ করবেন।


 ৮। আমরা অবগত আছি যে, স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন সমাজের বাস্তবতার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধানে রয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় বাহা’ই সমাজে এবং তাদের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানীয় সমাজগুলি পরিকল্পনার এই ক্রমগুলি উন্নয়নের পৃথক পৃথক স্তর থেকে শুরু করে এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত তারা ভিন্ন ভিন্ন গতিতে উন্নতি লাভ করে অগ্রগতির আলাদা আলাদা স্তর অর্জন করেছে। এই বিষয়টা নিজের মধ্যে নতুন কিছু না। এটা সব সময়ই হয়ে আসছে যে, বিভিন্ন স্থানে অবস্থা ভিন্নতর থাকে এবং একইভাবে সেখানে গ্রহণশীলতার মাত্রাও ভিন্ন থাকে। কিন্তু আমরা একটি উচ্ছসিত জোয়ার ও উপলব্ধি করতে পারছি যার মাধ্যমে সামর্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং পুঞ্জিভূত অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা বেশীর ভাগ সমাজের দিগদিগন্তের তাদের ভ্রাতৃ সমাজগুলির সাফল্য দ্বারা উৎসাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ ১৯৯৬ এ আত্মাগুলি একটি নতুন স্থান উন্মুক্ত করার জন্য এগিয়ে এসেছিল তারা সাহস, বিশ্বাস এবং নিষ্ঠার দিক দিয়ে তাদের কোন ঘাটতি ছিল না, আজকে সর্বত্র তাদের অনুরূপ ব্যক্তিরা সেই একই গুণাবলীর সাথে গোটা বাহা’ই বিশ্বের পঁচিশ বছরের সঞ্চিত জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি এবং দক্ষতাসমূহকে সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণ পদ্ধতিগত এবং পরিমার্জিত করার কাজের সাথে সংযুক্ত করেছেন।


 ৯। কোন সমাজের সূচনা বিন্দু নির্বিশেষে যখনই বিশ্বাস, অধ্যাবসায় এবং নিষ্ঠতার গুণাবলী গুলি শেখার জন্য আগ্রহের সাথে সংযুক্ত হয়েছে তা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এই পরিকল্পনাসমূহের ধারাবাহিকতার একটি লালিত দান ছিল এই সত্যের প্রতি ব্যাপক স্বাকৃতি প্রদান যে অগ্রগতির দিকে যে কোন প্রচেষ্টা শেখার প্রতি মনোযোগ প্রদান করা শুরু হয়। এই নিতির সরলতা তা থেকে যে ফলাফল উৎপন্ন হয় তার গুরুত্বটাকে আড়াল করে দেয়। আমাদের কোন সন্দেহ নাই যে, সময় দিলে প্রত্যেকটি ক্লাস্টার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অগ্রসর হবে। যে সকল সমাজ তাদের মতই অবস্থা এবং সম্ভাবনার অধিকারী সমাজগুলির তুলনায় অনেক দ্রুত অগ্রসর হয়েছে, তারা নিজেদের মধ্যে চিন্তার একতার উৎসাহ লালন করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা সম্পর্কে শেখার সামর্থ্য প্রদর্শন করেছেন, এবং তারা এই পদক্ষেপ সমূহ গ্রহন করতে ইতস্তত করে নাই।


 ১০। শেখার প্রতি অঙ্গীকার বদ্ধ হওয়ার এমটি অর্থ এটাও ছিল যে ভুল হতেই পারে তার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং অবশ্যই অনেক সময় ভুল অস্বস্তির কারণ ও হয়েছিল, এবং অবাক হওয়ার কোন কারণ নাই যে প্রথম দিকে নতুন পদ্ধতি এবং পথগুলিকে অভিজ্ঞতার অভাবে সঠিকভাবে পরিচালনা করা হয় নাই; অনেক সময় কোন একটি নতুন অর্জিত দক্ষতা হারিয়ে যায় কারণ সমাজ তখন অন্য একটি দক্ষতা উন্নত করার নিমগ্ন হয়ে যায়। কোন ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা এই নিশ্চয়তা প্রদান করে না যে ভুল ভ্রান্তি হবে না এবং এই ভুলগুলি অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিনম্রতা এবং অনাসক্তি উভয়ের প্রয়োজন হয়। যখন কোন সমাজ স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাওয়ার ভুলের প্রতি ধৈর্য প্রদর্শনের বিষয়ে দৃঢ়তাকে তখন প্রগতি কখনো নাগালের বাহিরে থাকে না।


 ১১। পরিকল্পনাসমূহের মাঝপথে বৃহত্তর সমাজের জীবনের সাথে বাহা’ই সমাজের সম্পৃক্ততা অধিকতর সরাসরি মনোযোগ লাভ করা আরম্ভ করে। বিশ্বাসীদেরকে এই বিষয়ে দুইটি পরস্পর যুক্ত কর্মক্ষেত্রের চিন্তা করতে উৎসাহ দান করা হয়েছিল। সামাজিক কার্যকলাপ এবং সমাজে আলোচনায় অংশগ্রহণ। এইগুলি অবশ্যই প্রচলিত। সম্প্রসারণ এবং দৃঢ়করণের কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া তো দুরের কথা, তার বিকল্প না। বরং (এই কাজ দুটি) তারই মধ্যে অন্তর্নিহিত। বাহা’ই সমাজ যত অধিক সংখ্যায় মানব সম্পদকে কাজে লাগাতে পারে তত বেশী বাহাউল্লাহর প্রত্যাদেশে অন্তর্ভূক্ত বিজ্ঞতা তত বেশি বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জসমূহের সাথে সম্পর্ক যুক্ত করতে এবং তাঁর শিক্ষাগুলিকে বাস্তবে পরিণত করতে পারবে এবং এই সময় মানবজাতির বিষয়াবলীর অস্থির অবস্থা ঐশী চিকিৎসক আবেগের জন্য যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছিল তার প্রয়োজন কত তীব্র ছিল, তার গুরুত্বের দিকে ঈঙ্গিত করে। এ সব কিছুর মধ্যে অন্তর্নিহিত ছিল ধর্ম সম্পর্কে এমন এক ধারণা যা বিশ্বে সাধারণভাবে পৃথিবীতে ধর্মের প্রচলিত ধারণা যে ধর্মকে চির প্রগতিশীল সভ্যতার শক্তিরূপে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে এইরূপ একটি সভ্যতা স্বত:স্ফূর্তভাবে আবির্ভূত হবে না, তা নিজে নিজে হবে না- এটা বাহা’উল্লাহর অনুসারীদের কর্তব্য ছিল তার আবির্ভাবের জন্য, শ্রম দান করা। এই জাতীয় কার্য সামাজিক কার্যক্রম এবং গণ আলোচনার ক্ষেত্রেও পদ্ধতিগত শেখার প্রক্রিয়া দাবি করে।


 ১২। গত আড়াই দশকের পরিপ্রেক্ষিতে দেখলে সামাজিক কার্যক্রমের দায়িত্বভার গ্রহন করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এমন কার্যক্রমসমূহের অসাধারণ বিকাশের দিকে চালিত করেছে। ১৯৯৬ -এর তুলনায় যখন প্রায় ২৫০ টি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প এক বছর থেকে অন্য বছর পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল বর্তমানে এমন ১৫০০ টি প্রকল্প বিদ্যমান রয়েছে। বাহা’ই শিক্ষা দ্বারা অনুপ্রানিত পন্থাগুলির সংখ্যা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৬০ এ দাড়িয়েছে। ৭০,০০০ এর অধিক তৃনমূল পর্যায়ে স্থান মেয়াদি সামাজিক পদক্ষেপ মূলক উদ্যোগ প্রতি বন্ধুর প্রতি বছরে হাতে নেওয়া হচ্ছে যা এই ক্ষেত্রে প্রকাশ গুন বৃদ্ধি। আমরা প্রত্যাশা করছি যে বাহা’ই অভিভাবক উন্নয়ন সংস্থার একনিষ্ঠ সহায়তা এবং প্রণোদনা যা এখন তাদেরকে প্রদান করা হচ্ছে, তার ফলে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ইতিমধ্যে, সমাজে চলমান আলোচনা সমূহের মধ্যে বাহা’ই অংশগ্রহন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্ধুরা তাদের কর্মস্থল বা ব্যক্তিগত পরিসরে সুযোগ পেলে তাদের কথোপকথনে বিভিন্ন বিষয়ে বাহা’ই দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন তাছাড়া আনুষ্ঠানিক স্তরেও আলোচনায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যাপকভাবে প্রসারিত প্রচেষ্টা এবং আর্ন্তজাতিক বাহা’ই সমাজ (বি,আই,সি) ক্রম বৃদ্ধিমান পরিশীলিত অবদানই নয়, যা এই সময়ে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপে তাদের অফিসমূহ যোগ করেছে বরং আমরা বহির বিভাগের জাতীয় অফিসগুলির একটি নেটওয়ার্কের কথাও আমাদের দৃষ্টিতে আছে, যার কার্যক্রম হবে ব্যাপকভাবে সংযোজিত এবং শক্তিশালী তারা তাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হবে এই ক্ষেত্রে (বাহির বিষয়াবলী) তার অতিরিক্ত ছিল বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে একক বিশ্বাসীদের অর্ন্তদৃষ্টিপূর্ন এবং লক্ষণীয় অবদান। এই সব কিছু মিলে সমাজের সর্বস্তরের নেতৃত্বস্থানীয় চিন্তাবিদ এবং অন্যান্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বারংবার বাহা’ই ধর্ম, তার অনুসারীগন এবং তাদের কার্যক্রমের প্রশংসা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, করেছেন তার কারন কিছুটা অনুমান করা যায়।


 ১৩। সম্পর্ণূ পঁচিশ বছরের পর্যালোচনা করার সময় আমরা বাহা’ই বিশ্ব একযোগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে প্রগতি অর্জন করেছি তা আমাদেরকে বিস্ময় বিহ্বল করছে। সমাজের বুদ্ধিভিত্তিক জীবন শ্রীবৃদ্ধি লাভ করেছেন যার প্রমান শুধু যে সকল ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টাসমূহ আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করছি তাই প্রদর্শন করে না, বরং বাহা’ই লেখকদের কর্তৃক উন্নতমানের রচনা সমূহের প্রকাশনা জ্ঞানের কতিপয় ক্ষেত্রগুলিতে বাহা’ই শিক্ষাসমূহের গবেষনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা, এবং বাহা’ই প্রতিষ্ঠান গুলির সহযোগিতায় ইন্সটিটিউট ফর স্টাডিজ ইন গ্লোবাল প্রসপারিটি কর্তৃক পরিচালিত পদ্ধতিগত অম্লাতক এবং স্নাতক সেমিনারগুলির এখন ১০০ এর অধিক দেশে বাহা’ই


 যুবকদেরকে এই সেবা প্রদান করছে তার প্রভাব ও এর অর্ন্তভূক্ত বাহা’ই উপাসনালয়গুলি নির্মাণের কাজ ও দৃষ্টিগোচরভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে। সর্বশেষ মাত্র উপাসনালয় দৈনিক সান্তিয়াগোতে নির্মিত হয়েছিল এবং দুইটি জাতীয় এবং পাঁচটি স্থানীয় মাত্র বিরল আকারের নির্মাণ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে কলম্বোডিয়ার বাটমবাং এবং কলম্বিয়ার নাট ডেল কাটিমার উপাসনালয়গুলি ইতিমধ্যে তাদের স্থির উন্মুক্ত করেছে। বাহা’ই উপাসনা মন্দিরগুলি, হোক সেগুলি সমন্বিত সময়ে উন্মুক্ত অথবা দীর্ঘ সময় পূর্বে প্রতিষ্ঠিত ক্রমবর্ধমানভাবে বাহা’ই জীবনের প্রাণ কেন্দ্রের স্থান দখল করে নিচ্ছে। ঈশ্বরের বন্ধুদের কর্তৃক গৃহিত অসংখ্য প্রচেষ্টাসমূহের প্রতি সাধারণভাবে বিশ্বাসীদের জাগতিক উপায়সমূহ দিয়ে সহায়তা ছিল অনুষ্ঠিত। এটাকে শুধু যদি সম্মিলিত আধ্যাত্মিক প্রাণশক্তির পরিমাপে হিসেবে যদি দেখা হয়, তাহলে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময় অর্থভান্ডারের অত্যন্ত গুরুত্ব প্রবাহ যা অব্যাহত ছিল, না বরং তা আরো শক্তিশালী হয়েছে, তা লক্ষ্য করার মত ছিল। বাহা’ই প্রশাসনিক ব্যবস্থার তার ক্রমবর্দ্ধমান সম্প্রসারণের ফলে যে জটিল আকার ধারণ করেছে তার মধ্যে জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের বিষয়াবলী পরিচালনায় তাদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তারা এই ক্ষেত্রে উপদেষ্টাগণের সাথে একটি নতুন, উচ্চতর সহযোগিতা থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছিল। উপদেষ্টাগণ বিশেষভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে পদ্ধতিগতভাবে অন্তর্দৃষ্টি সংগ্রহ করা এবং তা ব্যাপকভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। এটা একই সময় ছিল যখন আঞ্চলিক বাহা’ই কাউন্সিল ধর্মের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানরূপে আবির্ভূত হয় এবং এখন তারা ২৩০ টি অঞ্চলে তাদের অধীনে থাকা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সাথে মিলে বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদেরকে অপরিহার্য প্রমাণিত করেছেন। হুকুকুল্লাহর প্রধান ট্রাষ্টি ঈশ্বরের ধর্মবাহু আলী মুহাম্মদ ভার্কার দায়িতসমূহকে ভবিষ্যতে সম্প্রসারিত করার জন্য ২০০৫ সালে হুকুকুল্লাহর ট্রাষ্টিদের আন্তর্জাতিক বোর্ড গঠন করা হয়, যা আজকে সারা বিশ্বে কমপক্ষে ৩৩টি জাতীয় এবং আঞ্চলিক ট্রাষ্টিদের বোর্ডগুলির দেখাশোনা করছে, যারা আবার ১০০০ এরও অধিক প্রতিষ্ঠানকে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সময় বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্রে যে উন্নয়নের কাজ হয়েছে তা ছিল বহুবিধ: এই সময়টি বা’ব-এর সমাধির ধাপগুলির নির্মাণের সমাপ্তির এবং আক্কার দুইটি ভবনের নির্মাণ ও আব্দুল বাহার সমাধি নির্মাণ কাজের সূচনার সাক্ষ্য বহন করে এবং বাহা’ই ধর্মের একাধিক অত্যন্ত মূল্যবান পবিত্র স্থাপনাসমূহের সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজতো ছিলই।   বাহা’উল্লাহর এবং বা’ব-এর সমাধিগুলিকে মানবজাতির জন্য অমূল্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহরূপে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানরূপে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ সমাধিগুলি দর্শনের জন্য আসে, কোন কোন বছরে তাদের সংখ্যা পনের লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। তা ছাড়া বিশ্ব কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে শত শত তীর্থ যাত্রীদের একই সময়ে স্বাগত জানায়, অনেক সময় একই বছরে তাদের সংখ্যা ৫০০০ এর বেশি ছিল এবং প্রায় একই সংখ্যায় অন্যান্য বাহা’ই দর্শনার্থীও থাকতেন। আমরা একদিকে যেমন যারা তীর্থযাত্রার বদান্যতা প্রাপ্ত হয়েছেন তাদের সংখ্যায় বৃদ্ধি দেখে আনন্দিত ঠিক তেমনই তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশ এবং জাতীর মানুষের প্রতিনিধিত্ব লক্ষ্য করে আনন্দিত হয়েছি। পবিত্র লেখানবলীর অনুবাদ প্রকাশ এবং বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুততর হয়েছে, যা ছিল বাহা’ই কেন্দ্রে (রেফারেন্স) ইংরেজিতে রেফারেন্স হবে লাইব্রেরীর উন্নয়নের সমান্তরাল একটি ঘটনা। এই কেন্দ্রে লাইব্রেরী বাহা’ই ডট অর্গ পরিবারের ক্রমবর্ধমান সদস্যদের মধ্যে একটি অন্যতম সদস্য। স্বয়ং বাহা’ই ডট অর্গ এখন দশটি ভাষায় উপলব্দ। বাহা’ই বিশ্ব কেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন দপ্তর এবং এজেন্সীসমূহ স্থাপিত করা হয়েছে, যাদের দায়িত্ব হলো সারা বাহা’ই বিশ্বে প্রচেষ্টার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শেখার প্রক্রিয়া উন্মোচিত হচ্ছে সেগুলিকে সমর্থন দান করা। বিশ্বাসে আমাদের ভাই ও বোনেরা, এই সব কিছুই সেই উপাখ্যানের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র সেই বিশ্বের অত্যাচারিত জনের প্রতি আপনাদের ভক্তি সম্ভবপর করেছে। আমরা শুধু প্রিয় মাষ্টারের মর্মভেদী শব্দগুলিরই প্রতিধ্বনিত করতে পারি যা তিনি একদা আবেগে অভিভূত হয়ে চিৎকার করে বলে উঠে ছিলেন “হে বাহা’উল্লাহ্! আপনি কি করছেন!


 ১৪। সিকি শতাব্দীর বিস্তৃত দৃশ্য থেকে আমরা আমাদের দৃষ্টি সবচেয়ে সাম্প্রতিক পাঁচসালা পরিকল্পনার দিকে কেন্দ্রীভূত করি, এই পরিকল্পনা অনেক দিক দিয়ে পূর্ববর্তী যে কোন পরিকল্পনা থেকে বেশ পৃথক ছিল। এই পরিকল্পনায় আমরা বিশ্বের বাহা’ইদেরকে তারা বিগত পঁচিশ বছরে যা কিছু শিখেছেন তাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা আনন্দিত যে এই বিষয়ে আমাদের আশার থেকে অধিক অর্জিত হয়েছিল। যদিও আমরা পুত:পবিত্র সুষমার অনুসারীদের কাছ থেকে স্বাভাবিকভাবেই মহান কিছু প্রত্যাশা করি, তবুও তারা তাদের বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় যা অর্জন করেন তা সত্যই শ্বাসরুদ্ধকর ছিল। এটা ছিল এমন একটি অর্জনের মুকুট যা পঁচিশ বছরের সাধনার মুকুট ছিল।


 ১৫। পরিকল্পনাটি আরো স্মরণীয় হয়ে উঠে দুইটি পবিত্র দ্বি-শত বার্ষিকীর দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণে যা বিশ্বব্যাপী স্থানীয় সমাজগুলিকে উজ্জীবিত করে। বিশ্বস্তদের দল সমাজের সর্বস্তরের মানুষদেরকে একজন ঈশ্বরের প্রকাশকে সম্মান জানানোর জন্য এমন বৃহৎ সংখ্যায় এবং তুলনামূলক ভাবে এমন স্বাচ্ছন্দ্য সংযুক্ত করতে পারার দক্ষতা প্রদর্শন করে যা পূর্বে কখনো দেখা যায় নাই। এটা বৃহত্তর কোন কিছুর একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত ছিল: ধর্মের অগ্রগতির জন্য প্রচন্ড আধ্যাত্মিক শক্তিগুলিকে উন্মুক্ত করে প্রবাহিত করার দক্ষতা (মানুষের) এই সাড়া এমনই চমৎকার ছিল যে, অনেক স্থানে ধর্ম জাতীয় পর্যায় অজ্ঞাত অবস্থায় থেকে বেরিয়ে আসে। যে সকল পরিবেশে তা অপ্রত্যাশিত এমন কি সম্ভবত অবহেলিত ছিল, সেখানেই বাহা’ই ধর্মের প্রতি লক্ষণীয় গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠলো। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজকে সর্বত্র বাহা’ই সমাজগুলিকে যে ভক্তিমূলক উদ্দীপনায় বৈশিষ্টমন্ডিত করছে তার সংস্পর্শে এসে মোহিত হোন। বাহা’ই পবিত্র দিবস পালনের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে সেই কল্পনাদৃষ্টি অপরিসীমভাবে সম্প্রসারিত হয়।


 ১৬। পরিকল্পনার অর্জনগুলি, শুধু সংখ্যার দিক দিয়ে ধরলেও দ্রুত ১৯৯৬ পূর্ববর্তী সকল পরিকল্পনাগুলিকে ছাড়িয়ে যায়। এই পরিকল্পনার শুরুতে, যে কোন নিদিষ্ট সময় শুধু মাত্র ১০০,০০০ মূল কার্যক্রম পরিচালনা করার দক্ষতা ছিল, এই সামর্থ্যের ফল ছিল ২০ বছরের সার্বজনীন প্রচেষ্টার বর্তমানে ৩০০,০০০ মূল কার্যক্রম একই সময় চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বিশ লাখে ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধির সমান। ৩২৯ টি জাতীয় এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কর্মরত রয়েছে এবং তারা যে এক মিলিয়নের তিন চতুর্থাংশ (৭ লাখ ৫০ হাজার) মানুষকে এই অনুক্রমের কমপক্ষে একটি বই সম্পন্ন করতে পেরেছে তাই তাদের সামর্থের প্রমাণ। সামগ্রিকভাবে যে সকল ব্যক্তিরা বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেছেন তাদের সংখ্যাও এখন বিশ লক্ষ। যেটা কিনা গত পাঁচ বছরে তিনগুনের বেশী বৃদ্ধি।


 ১৭। বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধির কর্মসূচীগুলি যে তীব্রতার সাথে অনুসন্ধান করা হচ্ছে তা নিজেই একটি চিত্রাকর্ষক উপাখ্যান। এই পাঁচ বছর মেয়াদে ৫,০০০ টি ক্লাস্টারের প্রত্যেকটিতে যেখানে বৃদ্ধির কর্মসূচী শুরু করা হয়েছিল আমরা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এই উপদেশ সারা বিশ্বে আন্তরিক প্রচেষ্টাসমূহের জন্য অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে যায়। যার ফলে নীবিড় বৃদ্ধির কার্যক্রমগুলির সংখ্যা দ্বিগুন হয়ে এখন প্রায় ৪০০০ এ উন্নিত হয়েছে। একটি গ্রহব্যাপী স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে ধর্মের জন্য কোন গ্রাম বা এলাকাকে উন্মুক্ত করা বা কার্যক্রম বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে যে সকল সমস্যা ছিল তার জন্য পরিকল্পনার শেষ বছরে আরো উচ্চ সংখ্যায় পৌছানো যায় নাই। কিন্তু এই বিষয়ে বলার আরো অনেক কিছু আছে। পরিকল্পনার সূচনাতে আমরা আশা প্রকাশ করেছিলাম যে এমন সব ক্লাস্টারে যেখানে বন্ধুরা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার তৃতীয় মাইলফলক অতিক্রম করেছেন বৃহৎ সংখ্যায় মানুষকে স্বাগত জানানো এবং কার্যক্রমগুলিতে অন্তর্ভূক্ত করা শেখার ফলশ্রুতিতে তারা শত শত বৃদ্ধি লাভ করবে। তখন মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০, যা ৪০টির মত দেশে ছড়িয়ে ছিল, পাঁচ বছর পরে এই


 সংখ্যা ১,০০০ এর একটি আশ্চর্যজনক অঙ্কে পৌঁছেছে যা প্রায় ১০০ টি দেশে বিস্তৃত এবং বিশ্বের মোট নিবিড় বৃদ্ধির কর্মসূচীর এক চতুর্থাংশ এবং তা এমন একটি অর্জন যা আমাদের প্রতাশাগুলির অনেক ঊর্ধ্বে। তবুও এই পরিসংখ্যানগুলি সমাজ যে সুউচ্চ শিখরে উড্ডয়ন করছে তাকে প্রকাশ করে না। ৩০ এর অধিক ক্লাস্টার রয়েছে স্থায়ী মূলকার্যক্রমের সংখ্যা ১,০০০-এর বেশী। কিছু কিছু স্থানে এই সংখ্যা সহস্রাধিক, যেখানে একটি ক্লাস্টারেই অংশগ্রহণকারীদের সংখা ২০,০০০ এর অধিক। ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদগুলি এখন এমন সকল শিক্ষামূলক কর্মসূচীগুলি উন্মোচনের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছে যারা বেশীর ভাগে কোন গ্রামের সকল শিশু এবং জুনিয়র ইয়ুথদের সেবার আয়ত্বে এনেছে। একই বাস্তবতা কিছু শহর এলাকায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাহা’উল্লাহর প্রত্যাদেশের সাথে সম্পৃক্ততা কিছু কিছু লক্ষণীয় ক্ষেত্রগুলিতে ব্যক্তি, পরিবার এবং বৃহত্তর পারিবারিক গন্ডিকে অতিক্রম করেছে, এখন যা পরিলক্ষিত হচ্ছে তা হল একটি জনগোষ্ঠীর অভিন্ন কেন্দ্রে দিক যাত্রা। অনেক সময় পরস্পর বিরোধী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে যুগ যুগ ধরে চলে আসা বৈরিতা পিছনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে এবং কতিপয় সামাজিক কাঠামো সমাজকে পরিচালনাকারী রীতি-নীতিগুলি ঐশী শিক্ষার আলোকে রূপান্তরিত হচ্ছে।


 ১৮। এমন চিত্তাকর্ষক অগ্রগতি আমাদেরকে অতিশয় আনন্দ প্রদান না করে পারে না। বাহা’উল্লাহর ধর্মের সমাজ বিনির্মান শক্তি অধিকতর স্পষ্টতার সাথে প্রকাশ পাচ্ছে এবং এটা হলো সেই দৃঢ় ভিত্তি যার উপর আসছে নয় সালা পরিকল্পনা গড়ে তোলা হবে। যেমন আশা করা হয়েছিল চিহ্নিত শক্তি সম্বলিত ক্লাস্টারগুলি তাদের প্রতিবেশিদের জন্য এবং সম্পদসমূহের উৎসস্বরূপ প্রমাণিত হয়েছে এবং যে সকল অঞ্চলে এই স্তরের একাধিক ক্লাস্টার রয়েছে, সে সকল স্থানে ক্লাস্টারের পর ক্লাস্টার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার উপায় পরিণত করা সহজতর হয়েছে। কিন্তু আমরা আবার নিজেদের এই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করতে বাধ্য অনুভব করছি যে অগ্রগতি প্রায় সার্বজনীন ছিলএক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রগতির পার্থক্য হলো তুলনামূলক মাত্রার। দলে দলে যোগদান প্রক্রিয়া এবং সেই প্রক্রিয়াকে যে কোন পরিস্থিতিতে উদ্দীপিত করার ক্ষেত্রে সমাজের সম্মেলিত উপলব্ধি এমন একটি স্তরে উন্নতি হয়েছে যা বিগত দশকগুলিতে ছিল অকল্পনীয়। যে সকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নগুলি দীর্ঘকাল ধরে প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল সেগুলি ১৯৯৬-এ আরো স্পষ্টভাবে সামনে চলে আসলো এবং সেগুলি উত্তর বাহা’ই বিশ্ব প্রত্যয়যোগ্যভাবে দিয়েছে। বিশ্বাসীদের পুরো একটি প্রজন্ম রয়েছে যাদের সম্পুর্ন জীবন সমাজের প্রগতির ছাপ বহন করে। কিন্তু যে সকল ক্লাস্টারে যেখানে শিখার সীমাগুলিকে প্রসারিত করা হচ্ছে, সেখানে যা ঘটেছে তার মাত্রাই এমন বিশাল যে তা দলে দলে যোগদানের প্রক্রিয়ার অগ্রগতিকে একটি যুগান্তকারী ঐতিহাসিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।


 ১৯। অনেকেই এই বিষয়ে অবগত আছেন যে, অভিভাবক বাহা’ই ধর্মের যুগগুলিকে উপর্যপরি সংগঠিত কাল বা অধিযুগে ভাগ করেছেন। সাংগঠনিক যুগের পঞ্চম অধিকালের সূচনা হয় ২০০১ যে বিষয়টি কম জানা তা হলো অভিভাবক ঐশী পরিকল্পনার মধ্যে কাল বা অধিকাল রয়েছে এবং সেই অধিকালের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায় বা ধাপ রয়েছে তার সম্পর্কে সুনিদিষ্ট উল্লেখ করেছেন। দুই দশক ধরে যখন স্থানীয় এবং জাতীয় সংস্থাগুলি প্রতিষ্ঠা এবং দৃঢ় করা হচ্ছিল আব্দুল-বাহা কর্তৃক পরিকল্পিত এই ঐশী পরিকল্পনা তখন স্থগিত অবস্থায় রাখা হয়েছিল এবং ১৯৩৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তার উদ্বোধন করা হয়। অভিভাবক সাত সালা পরিকল্পনার দায়িত্ব উত্তর আমেরিকার বাহা’ই সমাজকে দেন, এই প্রথম অধিকাল ১৯৬৩ সালে দশ বছরব্যাপী ধর্ম অভিযানের সমাপ্তির সাথে শেষ হয়, যার ফল ছিল সারা বিশ্বে ধর্মের পতাকা উত্তোলন করা হয়। দ্বিতীয় অধিকালের সূচনাকারী হয় প্রথম নয় সালা পরিকল্পনার মাধ্যমে এবং তার অনুগামী হয় দশটি পরিকল্পনা, এই পরিকল্পনাসমূহের স্থায়িত্বকাল ছিল বারো মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত। এই দ্বিতীয় অধিকালের ঊষাকালেই বাহা’ই বিশ্ব ধর্মে মানুষের দলে দলে যোগদানের সর্বপ্রথম সাক্ষ্য দেখতে পারছিল যার পূর্বাভাষ ঐশী পরিকল্পনার রচয়িতা দিয়েছিলেন। পরবর্তী দশকগুলিতে মহত্তোম নামের সমাজের উৎসর্গকৃত প্রজন্মগুলি ঐশী দ্রাক্ষাক্ষেত্রে স্থায়ী ও বৃহৎ আকারে বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করার জন্য পরিশ্রম করে গেছেন এবং এই প্রভাময় রিজওয়ানকালে তাদের শ্রমের ফল কতই না সীমাহীন। সমাজের কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় স্ফীত হওয়ার মত ঘটনা, বিশ্বাসের স্ফুলিঙ্গ দ্বারা প্রজ্জ্বলিত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত পরিকল্পনার অগ্রভাগে সেবাদানে চলে আসা এখন বিশ্বাস নির্ভর পূর্বাভাষ থেকে একটি পুনঃ পুনঃ ঘটিত বাস্তবতায় পরিবর্তিত হয়েছে। এমন একটি সুস্পষ্ট এবং প্রমাণযোগ্য অগ্রগতি ধর্মের ইতিহাসে চিহ্নিত করে রাখার দাবি করে। পরম উল্লসিত হৃদয়ে আমরা ঘোষণা করছি যে, মাষ্টারের ঐশী পরিকল্পনার তৃতীয় অধিকাল শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে কালের পর কাল তাঁর পরিকল্পনা উন্মোচিত হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না ঐশী রাজ্যের আলো প্রত্যেকটি হৃদয়কে আলোকিত করবে।


 ২০। প্রিয় বন্ধুগণ, ঐশী পরিকল্পনার দ্বিতীয় অধিকাল যা পাঁচ বছর ব্যাপী উদ্যোগের সমাপ্তি ঘটালো তার কোন পর্যালোচনা সম্পূর্ণ হবে না যদি তার শেষ বছরে যে উথাল-পাথাল হলো এবং যা এখনো অব্যাহত রয়েছে তার বিশেষভাবে উল্লেখ করা না হয়। ব্যক্তিগত মেলামেশার প্রতি এই সময় বেশিরভাগ দেশে যে বাধানিষেধের যে দোলাচাল ছিল তা সমাজের সমষ্টিগত প্রচেষ্টাসমূহের প্রতি প্রচন্ড আঘাত হানতে পারতো, যার থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক বছর লেগে যেতে পারতো কিন্তু দুটি কারণে তা হয় নাই। একটি ছিল বাহা’ইদের মানব জাতির সেবা করা দায়িত্ব সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা বিশেষ করে বিপদ এবং প্রতিকুলতার সময়। অন্যটি ছিল সেই সচেতনতাকে প্রকাশ করার বাহা’ই বিশ্বের সক্ষমতায় অসাধারণ উত্থান। অনেক বছর ধরে নিজেকে পদ্ধতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার ছকে অভ্যস্ত করার ফলে, বন্ধুরা তাদের সৃজনশীলতা এবং অভীষ্ট লক্ষ্যের জ্ঞানকে তারা অপ্রত্যাশিত সংকটের কাজে লাগায়, একই সময় তারা এই বিষয়টা নিশ্চিত করে যেন তারা যে সকল নতুন পথগুলি উদ্ভাবন করছে সেগুলি যেন তা সেই কাঠামোর সাথে সঙ্গত হয়ে থাকে নিখুঁত করার জন্য পরিকল্পনাগুলি ধারাগুলিতে শ্রম দিয়ে আসছিলেন। এটার অর্থ এই না যে সব দেশেই তাদের দেশবাসীদের মত বাহা’ইরা যে চরম দুর্দশা সহ্য করছেন তাকে অবজ্ঞা করা ; কিন্তু চরম দুর্দশার পুরো সময় বিশ্বাসীরা অবিচল থাকলো। যে সকল সমাজে প্রয়োজন ছিল সেখানে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রেরন করা হয় যেখানেই সম্ভব ছিল সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বাবস্থায় ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলি তাঁদের দায়িত্ব পালন করে গেছে। এমন কি সম্মুখ দিকে কিছু সাহসী পদক্ষেপ ও গ্রহন করা হয়। সাও তোমে এবং প্রিনসিপ-এর জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ এই রিজ্ওয়ানে পুর্ণ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সার্বজনীন বিচারালয়ের দুইটি নতুন স্তম্ভ নির্মাণ করা হবে : যথা ক্রোয়েশিয়া জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ যার কেন্দ্র হবে জাগ্রেব এবং তিমুর লেস্তের জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ, যার কেন্দ্র দিলীতে অবস্থিত হবে।


 ২১) এইভাবেই এক বছরের পরিকল্পনা শুরু। তার লক্ষ্য এবং প্রয়োগসমূহ ইতিমধ্যেই আমাদের চুক্তিপত্র দিবসের বার্তায় জানানো হয়েছে। এই পরিকল্পনা, যদিও সংক্ষিপ্ত কিন্তু তা বাহা’ই বিশ্ব তার পরবর্তী নয় সালা পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুত করার জন্য যথেষ্ট হবে। বিশেষ শক্তিধর এই সময়, যার সূচনা হচ্ছে ঐশী পরিকল্পনার এই সময়, যার সূচনা হচ্ছে ঐশী পরিকল্পনার ফলকলিপির প্রকাশ হওয়া একশত বছর পরে, শিঘ্রই আব্দুল বাহা’র স্বর্গারোহনের শত বার্ষিকীর সাথে সমাপ্ত হবে এবং তা সাংগঠনিক যুগের প্রথম শতাব্দীর সমাপ্তি এবং দ্বিতীয়টি সূচনার চিহ্নিত করবে। বিশ্বাসীদের দল এমন এক সময় এই নতুন পরিকল্পনায় প্রবেশ করে যখন মানবতা তার দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ফলে সংযত হয়েছে এবং মনে হচ্ছে যে গ্রহব্যাপি চ্যালেঞ্জের মুখে সহযোগিতার প্রয়োজন সম্পর্কে অধিকতর সচেতন। কিন্তু প্রতিযোগিতা স্বার্থপরতা, বিদ্বেষ এবং গোড়ামি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা অভ্যাসগুলি একতার দিকে চলার পথে বাধা প্রদান করা অব্যাহত রেখেছে, যদিও সমাজে ক্রমবদ্ধমান সংখ্যায় মানুষ কথা ও কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করছে যে তারা ও মানবতার সহজাত একতার অধিকতর স্বীকৃতির জন্য আকুল। আমরা প্রার্থনা করি জাতিসমূহের এই পরিবার যেন অভিন্ন কালের জন্য তাদের তাদের বিভেদগুলি ত্যাগ করতে পারে। আগামী মাসগুলিকে যে অনিশ্চয়তা আবৃত করে রেখেছে তা সত্ত্বেও আমরা বাহা’উল্লাহর কাছে অনুনয় করি তাঁর সমর্থন তাঁর অনুসারীদেরকে যে দীর্ঘকাল ধরে শক্তিদান করেছে তা অধিকতর হোক, যেন আপনারা আপনাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান, আপনাদের একাগ্রতা কোলাহলে বিস্মৃত না হয়, যেই বিশ্বের তাঁর নিরাময়কারী বাণীর প্রয়োজন আজ সর্বাধিক। ঐশী পরিকল্পনা একটি নতুন অধিকাল এবং একটি নতুন পর্যায় প্রবেশ করছে। ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে ।

The Universal House of Justice